This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

হে সব্যসাচী । আনু ইসলাম



শতরুপা রুপে অপরুপা
হেথা প্রিয়তমা ধরলার বক্ষে পলির রঙ্গ,
ভরা যৌবনে প্রবাহমান
চির ক্ষরস্রোতা ব্রহ্মপুত্রের উত্তাল তরঙ্গ।
নিরুদ্দেশের উদ্দেশে ছুটে
নিয়ত আসতে স্মৃতি ঘেরা বাহের দেশে,
বজ্রকণ্ঠত জনসমুদ্রে
'মঙ্গা নয় চাঙ্গার দেশ' রটিলে স্ব-বেশে।

প্রত্যুষ রবি- রাতের চন্দ্র
নীলাম্বর-নীলাচল-মিষ্ট পবন সঙ্গ,
হে কবি- হে সব্যসাচী
সর্বকাল ধরে তোমাতে বিস্মিত বঙ্গ।
জন্ম ধন্য হে- গর্বিত মোরা
কুড়িগ্রামের মাটিতে প্রথম ডেকেছ মা,
কাঁদিয়ে বাংলা চলিলে তুমি
পিঞ্জর জুড়িলো জননী ফের ডাকিলে মা।

আমার কোন দুঃখ নাই | আনু ইসলাম

আমার কোন দুঃখ নাই
আনু ইসলাম






কালে-অকালে চলার পথে
কোন রমনীর রঙিন হাত থেকে
একটিও গোলাপ পেলাম না বলে
আমার কোন দুঃখ নাই,
কেননা, ঐ একটি গোলাপের বিপরীতে
হৃদয়ের জমিনে আমি-
হাজারো গোলাপ ফুঁটায় দিয়েছি তাই।
.
হাতের'পর হাত রেখে
ফুঁটন্ত সকালে অথবা গোধূলি সন্ধ্যে
কেউ এক-সাথে চললো না বলে
আমার কোন দুঃখ নাই,
কেননা, ঐ একটি হাতের বিপরীতে
পথে-পথে, রাজপথে-
লক্ষ-কোটি বিপ্লবী বাহুর ঝংকার শুনতে পাই।
.
শুধু দারিদ্র্যের দায়ে
মাঠে-ঘাঠে, পৃথিবীর প্রান্তে-প্রান্তে
উপেক্ষা, অবহেলার শেষ নাই বলে
আমার কোন দুঃখ নাই,
কেননা, ঐ উপেক্ষা, অবহেলার বিপরীতে
তোমাদের ভব-দরিয়ায় আমি-
নিযুত-নিযুত প্রেমের সাম্পান বাইয়া যাই।

বিবর্তনবাদ কি বৈজ্ঞানিক সত্য ?

মানুষের উৎপত্তি কিভাবে এ নিয়ে দীর্ঘদিন বিজ্ঞান, দর্শণ ও ধর্মের মাঝে বির্তক চলছে। মানুষের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সে নতুনকে জানতে চায়। আর সে জন্যই সে রাজত্ব করছে দূর মহাকাশে, সাগর তলে এবং মর্ত্যরে এ পৃথিবীতে। পৃথিবীর প্রধান চারটি ধর্মই বলছে মানুষের উৎপত্তি এক জোড়া নর-নারী থেকে।




কিন্তু বিজ্ঞানের মূল কথাই হল প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর যথার্থ কারণ অনুসন্ধান ও তার পর্যবেক্ষণ। তাই আজকের এ বিশাল মানবজাতি কিভাবে আসল, প্রাণের উৎপত্তি কিভাবে এ প্রশ্নের উত্তর প্রাপ্তি বিজ্ঞানের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমান সময়ে একটি  ‘ Theory’  বা তত্ত্ব সবার মাঝেই প্রচলিত। আমাদের অধিকাংশ মানুষের এ তত্ত্বটি নিয়ে একটি ভুল ধারনা রয়েছে। সেটি হল ডারউইনের বিবর্তবাদ ( Evolution),  এ তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষের উৎপত্তি বানর থেকে। আর সবাই ভাবতে থাকে বিজ্ঞান ও ধর্ম সাংঘর্ষিক। আমাদের মাঝে সে ভুল ধারণাটি সেটি হল আমরা ভাবি বিবর্তনবাদ বৈজ্ঞানিক সত্য বা, এর পিছনে অনেক শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে। আসলে বিবর্তনবাদ হল Theory  বা, তত্ত্ব, কোন Fact,  বা, বৈজ্ঞানিক সত্য না। অর্থাৎ, এটি এখনও অপ্রমানিত। তাহলে যে, প্রশ্নটি সবার মনে জাগে যেটি হল এ অপ্রমানিত তত্ত্বটি এত ব্যাপকভাবে কেন প্রচারিত হল? এর উত্তরটি আসলে পাওয়া যায় ইতিহাসের পাতায়। গ্যালিলিও যখন বাইবেলের বিপক্ষে কথা বললেন তখণ তাঁকে হত্যা করা হল। আর এটি তখণকার সময়ে প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীদের মনে দাগ কেটেছিল। সে সময় থেকে ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের বিরোধ শুরু হল। যখন বিবর্তনবাদ প্রকাশিত হল তখণ অধিকাংশ বিজ্ঞানীরা এটি সমর্থন করেছিল কারণ এটি ধর্মের বিরুদ্ধে যায়। আজও শুধু ধর্মের বিরুদ্ধে যায় বলেই এটি এত ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

বিবর্তনবাদ কী? এর আরেকটি নাম হল প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ  Tneory of natural Selection) এর মূল কথাটা এমন, ‘‘ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরল কোষ ধীরে ধীরে জটিল হয়ে এবং সরল জীব টিকে থাকার জন্য প্রাকৃতিক নিয়মেই পরিবর্তিত হয়ে জটিল অবস্থার রূপ নেয়।’’

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ”Survival of the fittest”  পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়িয়ে নেওয়ার জন্য জীব সরল থেকে জটিল হয়। ডারউইন এ তত্ত্বটি দেন ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর বিখ্যাত গবেষনাপুস্তক ”Origin of species by means of natural selection”.  এ তত্ত্বটি তিনি দেন গেলাপেগোস দ্বীপে চার বছর গবেষনার পর। তিনি খাবার গ্রহণের উপর পাখিদের ঠোঁটের আকৃতির পরিবর্তন লক্ষ্য করে এই তত্ত্বটি দেন। বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান এতটাই অগ্রসর যা তখনকার সময়ে ছিল না। তাই জেনেটিকস্ মাইক্রোবায়োলজি, এমব্রায়োলজি এ শাখাগুলো বিকাশের সাথে সাথে নতুন নতুন তথ্য উম্মেচিত হয় এবং বিবর্তনবাদ একটি পঙ্গু তত্ত্বের রূপ নেয়। এখানে কতগুলো যুক্তি দেওয়া হল যা বিবর্তনবাদকে একটি ভিত্তিহীন তত্ত্বে রূপান্তরিত করে।

 

যুক্তি নং ১ : স্লাইডেন এবং সোয়ান যারা কোষ তত্ত্বের প্রবর্তক তাঁরা বলেছেন ”Every cell comes from a pre-existing   cell”  প্রত্যেকটি কোষ শূন্য থেকে আসে না। তার অবশ্যই একটি মাতৃকোষ থাকে। ভারউইনের বিবর্তবাদ এটির ব্যাখ্যা দিতে পারে না যা কিভাবে জীবনের উৎপত্তি হল। আর সে জন্য বিবর্তনবাদ একটি ভ্রান্ত তত্ত্বে পরিণত হয়েছে।

যুক্তি নং ২ : DNA  হচ্ছে জীবনের রাসায়কি ভিত্তি। এ DNA  এর উপাদান ৫টি কার্বন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও ফসফরাস। DNA  গুলো অ্যামিনো এসিড তৈরী করে আর এই অ্যামিনো এসিডগুলো প্রোটিন তৈরী করে। আজকের বিজ্ঞান আমাদের বলে একটি DNA অনু যদি হঠাৎ করে তৈরী হত ( বিবর্তনবাদ অনুযায়ী) তবে এর সম্ভাবনা 1/10-268  যা শূন্যের কাছাকাছি। এমনকি বিশ্ব জগতের সব অনুপরমানু একত্রিত করেও একটি DNA  তৈরী করা সম্ভব না। বর্তমান এত উচ্চমানের গবেষনাগারেও বিজ্ঞানীরা শূন্য থেকে কোষ তৈরী করতে সক্ষম না।

যুক্তি নং ৩ : Thermodynamics এর 2nd Law  অনুযায়ী, প্রত্যেকটি সিস্টেম সুশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বিশৃঙ্কল অবস্থার দিকে যায় যদি বাহিরের কোন শক্তি এটিকে নিয়ন্ত্রন না করে। ডারউইনের বিবর্তবাদ অনুযায়ী প্রাকৃতিক নিয়মেই সুশৃঙ্খল ভাবে সরল জীবগুলো জটিল অবস্থার রূপ নেয়। Thermodynamics এর সূত্রানুযায়ী, স্রষ্টার সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ছাড়া প্রাকৃতিক নিয়মে  কখনোই সরল জীবগুলো জটিল অবস্থা লাভ করতে পারে না। তাই Tneromodynamics যা প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য তা বিবর্তনবাদকে অস্বীকার করে।

যুক্তি নং ৪: পৃথিবীর এ বিচিত্র প্রাণীর সমারোহ দেখে আমরা কখনোই ভাবতে পারি না মানুষের উৎপত্তি বানর থেকে। কেননা প্রত্যেকটি প্রাণীর ক্রোমোসোম সংখ্যা নির্দিষ্ট। এর কম বা, বেশি হলে প্রাণীটি তার অস্তিত্ব হারায়। বানরের ক্রোমোসোম থেকে মানুষে উৎপত্তি হওয়াটা বিজ্ঞানের কাছে হাস্যকর।

যুক্তি নং ৫: Muation  বিবর্তনবাদের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বিবর্তনবাদ অনুযায়ী সরীসৃপ হতে বিবর্তিত হলে এসেছে পক্ষীকূল। আজকের বিজ্ঞান প্রমাণ কর যে, Muation  অর্থাৎ জীনের পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো জীবের বৈশিষ্ঠ্যের পরিবর্তন করা যায় কিন্তু কখনোই বাঘ থেকে হাতী তৈরী করা সম্ভব না। তাই বিবর্তনবাদ অনুযায়ী, সরীসৃপ থেকে পাখির উদ্ভবের ঘটনাটি অবৈজ্ঞানিক।

যুক্তি নং ৬: নৃতত্ত্ববিদরা মানুষের উৎপত্তির ধারাকে চারটি ভাগে ভাগ করেন। এগুলো হলঃ অস্ট্রালোপিথেকাস, হোমো ইরেকটাস হোমোএভিলাস এবং হোমোসেপিয়েনস। বিবর্তনবাদের সাথে এই স্তরগুলোর কোন মিল নেই যা এর অগ্রহণযোগ্যতার একটি কারণ।

যুক্তি নং ৭: সম্প্রতি নাসা থেকে দুটি মহাকাশ যান পাঠানো হয় মঙ্গল গ্রহে। সেখানে পানির উপস্থিতি দেখা যায়। কিন্তু সেখানে কোন জীবনের উৎপত্তি হয় নি। বিবর্তনবাদ অনুযায়ী, যেহেতু সেখানে জীবনের উৎপত্তি হওয়ার পরিবেশ ছিল সেখানে প্রাকৃতিক নিয়মে জীবনের বিকাশ ঘটার কথা। এর কারণ হল, বিবর্তনবাদ বলতে আসলে কিছু নেই। প্রত্যেকটি জিনিসই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়।

যুক্তি নং ৮:  বিবর্তনবাদকে যারা সমর্থন করেন তারা ফসিল ( Fossil)  গুলো থেকে যুক্তি দেখান। মানুষ ও Primate  গোত্রের প্রাণীদের Skull গুলো নিয়ে সাদৃশ্য খুঁজে বের করে তারা মানুষের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তাই আজ তারা সবচেয়ে বড় প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন কেননা জিরাফ এবং জেব্রার মত প্রাণীদের ক্ষেত্রে এ ফসিলগুলো উপর্যুক্ত সত্যতা প্রমাণ করে না। অন্য কোন প্রাণীদের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য পাওয়া যায় নি।

যুক্তি নং ৯:  বিবর্তবাদ অনুযায়ী প্রতিকূল পরিবেশে টিকে যাকার জন্য প্রাণীদের দৈহিক কাঠামোর পরিবর্তন ঘটে এবং জীবটি তার নিজস্বতা হারিয়ে অন্য একটি প্রজাতিতে পরিণত হয়। আজকের বিজ্ঞান বলে পরিবেশের সাথে সাথে জীবরে কিছু জীনগত পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে জীবটির কিছু বৈশিষ্ট্যর পরিবর্তন ঘটে কিন্তু কখনোই জীবটি অন্য প্রজাতির আরেকটি জীবে পরিণত হয় না। এটি ‘Genetics’ এর একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক সত্য। তাই বিবর্তনবাদ আজ তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন। নোবেল বিজয়ী কয়েকশ বিজ্ঞানী আছেন যারা বিবর্তনবাদকে সমর্থন করেন নি। স্যার ওয়াটসন ও ক্রীক তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

যুক্তি নং ১০: বিবর্তনবাদ যদি সত্যই হবে তবে বর্তমান একজন মানব শিশুকে মানব পরিবেশ হতে সম্পূর্ন পৃথক করে বনজ পরিবেশে আর একটি বানরকে মানব পরিবেশে আনলেতো অভিযোজন প্রক্রিয়ার ফলে মানব শিশু বানরে আর বানর মানবে পরিনত হবার কথা । কিন্তু তা চিরকাল অসম্ভব যা বুঝিয়ে দেয় যে ডারউইনের বিবর্তনবাদ একটি মিথ্যা যুক্তি ।

 যুক্তি নং ১১: যারা বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেন তাদের জন্য আর একটি প্রশ্ন যে একটি মাত্র কোষ থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট আজকের এই জটিল মহাবিশ্বের সকল । ঠিক সেই কোষটির সৃষ্টিকর্তা কে ? কোথা থেকে পেল তার বিভাজন ক্ষমতা ? সেটার কি জীবন আর বিবেক ছিল ? সেটা কোন পরিবেশে ছিল ? কে প্রথম ঐ কোষটি প্রকৃতিক ভাবে নির্বাচন করেছিলেন ?
যুক্তি নং ১২: আমরা যে কাগজে লিখি তার উৎস কি? এর উৎস গাছ। যদি কেউ বলে, অনেক বছর পূর্বে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে গাছ থেকে কাগজের উৎপত্তি হয় এবং সেই কাগজে তৈরী হয় খাতা তা কি আপনি বিশ্বাস করবেন? কখনোই না, কারণ একটি ছোট শিশু ও বুঝতে পারে কাগজ কারখানাতে কারিগরের পরিশ্রমে তৈরী হয়। তাই আজকের এ জীবজগৎ হঠ্যাৎ করে সৃষ্টি তা মানা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক।

মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। তার উৎপত্তি বানর থেকে হতে পারে না। যদি তাই হয় তবে মানুষের আধ্যাতিক ও পারলৌকিক জীবন, তার আবেগ, অনুভূতি, সমাজ রাষ্ট্র সব কিছুই অর্থহীন। বিবর্তনবাদ কোনো বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। এটি এখনোও একটি তত্ত্ব। এর সাহায্যে প্রজনন তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করা সহজ তাই এখনো ও অনেকে এটিকে ব্যবহার করে থাকেন। বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হচ্ছে বিবর্তনবাদ ততই অকেজো হয়ে পড়ছে। একদিন বিজ্ঞান মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিবে। মানুষ জানতে পারবে তার অস্বিত্ব কিভাবে এল।

http://anukgc.blogspot.com/?m=1






কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৩বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ


কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হোসেন আলী (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার(২৭মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে উপজলোর সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় শনিবার(২৮র্মাচ) নির্যাতিত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ।
অভিযুক্ত হোসেন আলী রৌমারী সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম এলাকার মৃত কোরবান আলীর ছেলে।
রৌমারী থানার ওসি আবু মো: দিলওয়ার হাসান ইনাম এ তথ‌্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকালে সু-কৌশলে ওই শিশুটিকে কোলে নেয় প্রতিবেশী হোসেন আলী। সরল বিশ্বাসে ওই শিশু সন্তানকে ওই যুবকের কাছে রেখে বাড়ির পাশে জিঞ্জিরাম নদীতে গোসল করতে যায় শিশুটির মা। এসময় সুযোগ বুঝে শিশুটিকে পাশের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে হোসেন আলী। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে ধর্ষক হোসেন আলী পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রৌমারী উপজলো স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই হোসেন আলীকে আটক করে থানায় নেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিত শিশুর পরিবারসহ এলাকাবাসী। রৌমারী থানার ওসি আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম জানান, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। নির্যাতিত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। চিকিৎসকের বরাদ দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথ‌মিকভা‌বে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



যেখানে ভুল করে ৯৯শতাংশ মানুষ!


আমরা জানি, সরলীকরণের বাইবেল খ্যাত টেকনিক হচ্ছে- BODMAS.

[যেখানে, B তে ব্রাকেট, O তে এর, D তে ভাগ, M তে গুণ, A তে যোগ এবং S তে বিয়োগ]
বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, 'এর' এবং 'গুণ' আপারেটর দুইটির ক্ষেত্রে দুই বা ততধিক সংখ্যাকে গুণ করতে হয়। কিন্তু এদের মধ্যে রয়েছে বিস্তর তফাৎ। কেননা, 'এর' অপারেটরের কাজ করতে হয় ভাগের আগে কিন্তু গুণ অপারের কাজ করতে হয় ভাগের পরে। অর্থাৎ, আমরা এই সিদ্ধানে উপনীত হতে পারি যে, সরলীকরণের ক্ষেত্রে-
(২ এর ৩) এবং (২×৩) একই জিনিস নয়।

এখন ম্যাথটি সমাধান করা যাক-
১২÷২(৬-৭+৪)×২
=১২÷২(১০-৭)×২
=১২÷২(৩)×২
=১২÷৬×২
=২×২
=৪

সমস্যা এবং সমাধাণঃ
উপর্যুক্ত সমাধানে ৩য় লাইনটি[১২÷২(৩)×২] এই ম্যাথটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল। যত ভুল বুঝাবুঝি সব এই লাইনটির কারণেই। এই লাইনে আপনি কোন কাজটি আগে করবেন তা হচ্ছে মূল কথা। এখানে ১২÷২ আগে নাকি ২(৩) আগে নাকি (৩)×২ আগে নাকি ২(৩)×২ আগে? এই প্রশ্নের সমাধান পেতে হলে জানতে হবে ২(৩) এর গোপন রহস্য। এখানে ২(৩) মূলত গানিতিক অপারেটর 'এর' কে নির্দেশ করে। অর্থাৎ- ২(৩) হচ্ছে মূলত '২ এর ৩'। তাহলে লাইটির মধ্যে পর্যায়ক্রমে আগে ÷ চিহ্ন, তারপর 'এর' চিহ্ন, তারোপর হচ্ছে × চিহ্ন। তাহলে BODMAS অনুসারে আগে 'এর' অর্থাৎ ২(৩) এর কাজ করতে হবে।

এখন ৪র্থ লাইন[১২÷৬×২] এ রয়েছে ÷ এবং × চিহ্ন। আপনি কোন কাজটি আগে করবেন? অবশ্যই '১২÷৬' এর কাজ। কারণ ভাগের পরে গুণের কাজ করতে হয়।

এখন প্রশ্ন হতে পারে যে, ২(৩) কিভাবে 'এর' অপারেটরকে নির্দেশ করে? তাহলে চলুন...
প্রথমে আমরা সাধারণ ক্যালকুরেটরের কথায় আসি। এই ক্যালকুলেটরগুলো এমন ভাবে প্রোগ্রামিং করা যাতে গাণিতিক অপারেশনের মৌলিক সামান্য কিছু অপারেশণ করা সম্ভব। যেমন সরলীকরণের ক্ষেত্রে যে ৬টি গাণিতিক অপারেটর(ব্রাকেট, এর, ভাগ, গুণ, যোগ, বিয়োগ) কাজ করতে হয় তার মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বন্ধনী এবং 'এর' এর কাজ সাধারণ ক্যালকুলেটর করতে পারে না। এটি এই ক্যালকুলেটরের সীমাবদ্ধতা। আপনি এ সকল ক্যালকুলেটরে যখনি ১২÷২(৬-৭+৪)×২ তুলতে যাবেন দেখবেন ১২÷২×(৬-৭+৪)×২ লেখা হয়ে গেছে। আর এখানেই ঘটলো বড় ভুল(অর্থাৎ ভাগের পর ২ এর ঠিক পরে শুধু প্রথম বন্ধনী না ওঠে ×( উঠেছে। এভাবেই ভুলভাবে সমাধান আসে ৩৬। [স্ক্রিন শর্ট ১ দেখেন]

এখন আপনি যদি ঐ অতিরিক্ত গুণ চিহ্নটি তুলে ans পেতে ক্যালকুলেটর চাপেন তবে ক্যালকুলেটর বলবে 'wrong format' অথবা, ক্যালকুলেটর কোন কাজ-ই করবে না। [স্ক্রিন শর্ট ২ দেখেন]

তাহলে কী ম্যাথটি আমরা ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে করতে পারবো না???
পারবো, অবশ্যই পারবো। এর জন্য প্রয়োজন একটি সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর।

স্ক্রিন শর্ট ৩ এ দেখুন আমি নিজ ইচ্ছায় ম্যাথটিতে একটি অতিরিক্ত × চিহ্ন ব্যবহার করেছি। অবশ্য এর একটি বিশেষ কারণ আছে। তা পরে বলছি। দেখুন এক্ষেত্রে উত্তর দেখাচ্ছে ৩৬।

এখন স্ক্রিন শর্ট ৪ লক্ষ করুণ-

এখানে ম্যাথটি ঠিকঠাক উঠানো হয়েছে। চাইলে আপনিও প্রাকটিস করতে পারেন। এখন উত্তর দেখেন ৪(চার)। তো কথা হচ্ছে যে, যদি আমরা ২(৩)×২ এর ক্ষেত্রে ২(৩) কে ২×৩ হিসাবে বিবেচনা করি তবে স্ক্রিন শর্ট ৩ এবং ৪ এ একই উত্তর দেখার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। তাহলে বুঝতে হবে যে ২(৩) অংশটি গুণ কে বুঝাচ্ছে না। আর যদি গুণ না বুঝায় তবে ২(৩) কী???
আসলে ২(৩) অংশটিকে প্রথমত আপনি ভাবতে পারেন যে, ২ এর ৩ হিসাবে, অন্যথায় ভাবতে পারেন যেহেতু (৩) এ এখনো প্রথম বন্ধনী আছে তাই অন্য কোন গাণিতিক অপারেটরের আগেই ২(৩) অংশটির কাজ করে বন্ধনী বিলুপ্ত করতে হবে।

তাহলে, ম্যাথটির সঠিক উত্তর ৪ যা সায়েন্টিফিক্যারি প্রামিণত হলো।

আমি ছোট মানুষ। আমার সমাধানে যদি কোন ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে তা জানালে আমি উপকৃত হব।

আপনাদের শুভকামনায় আমি- আনু ইসলাম

বিজয় আসলে | ক্লান্ত মুসাফির



বিজয় যে দিন আসবে বন্ধু
সবাই দেখবে চেয়ে।
বুকে জড়িয়ে নিবে তোমায়
অনেক ভালপেয়ে।
বলবে সবাই তোমায় এসে
তোমার সাথে ছিলাম।
তোমার জন্য তুলসি তলায়
জল দিয়েছিলাম।
ফুলের মালা,গিফট উপহার
আরও কত কিছু।
সবায় তখন সালাম দিয়ে
ঘুরবে পিছু পিছু।
খাতির যত্ন করবে তোমার
ধরবে তোমার পা।
স্বার্থ খানি শেষ হলেই
খুজে পাবে না....

৩০ ডিসেম্ভরের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে

নাহিদ হাসান নোলেজ

৩০ ডিসেম্ভরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ‘ডাকসু’ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে । আগের ৪ বারের মতো বাতিল না হলে, আগামী ১১ মার্চ -এ নির্বাচন হওয়ার কথা । কেমন নির্বাচন হবে ডাকসুতে ? ৩০ ডিসেম্ভরের মতো ? আরো অভিনব ? ফ্রি এন্ড ফেয়ার ? এসব প্রশ্ন মাথায় না নিয়ে নির্বাচনের আলাপে কেউ ঢুকতে পারবেনা আসলে । ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ এর নির্বাচন সমুহের ইতিহাস মাথায় নিলে দেখা যাবে, ডাকসু’র জন্য ন্যুনতম গ্রহনযোগ্য একটি নির্বাচন করতে হলে কমপক্ষে ২টি শর্ত পুরণ করতে হবে ;
১ । নির্বাচনপূর্ব স্বাভাবিক, নিরাপদ পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিশ্চিত করা ।
২ । নির্বাচনের দিনের পরিবেশ এবং কারচুপি মুক্ত নির্বাচনী ফলাফল নিশ্চিত করা । যার জন্য কমপক্ষে নীচের শর্ত গুলো পুরণ করতে হবে :
ক) এমন একটি ব্যবস্থা করতে হবে যাতে কেউ আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে না রাখতে পারে অর্থাৎ ভোট গ্রহন শুরুর আগে দায়িত্ব পালনরতদের মিডিয়াকে ডেকে এনে দেখাতে হবে যে ব্যালট বাক্স শুন্য আছে ।
থ) ভোট গ্রহন হতে হবে সবার জন্য নিরাপদ এবং উন্মুক্ত স্থানে অর্থাৎ হলে হলে ভোট গ্রহনের পুরাতন ব্যবস্খার পরিবর্তে একাডেমিক ভবনে বা সুবিধাজনক অন্য কোন স্থানে ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা হবে ।
গ) ভোটোরের উপস্থিতি, অবস্থান এবং চলাচলকে নিরাপদ করতে হবে অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ- নির্গমন এবং অবস্থানের সময়কালে যাতে কেউ কাউকে আক্রমন, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নিপীড়ন- নির্যাতন না করতে পারে তার জন্য পর্যাপ্ত সিসি টিভি স্থাপন করতে হবে । সকল ধরনের মিডিয়ার স্বাভাবিক উপস্থিতিরি পরিবেশ ও ব্যবস্থা করতে হবে ।
ঘ) বিকাল ৪-৫টার মধ্যে অংশগ্রহনকারী সংগঠন,ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা শেষ ও ফল ঘোষনার ব্যবস্থা করতে হবে ।
এ কয়েকটি শর্ত পুরণ করার দাবীতে সকল ছাত্র সংগঠন ও সাধারন ছাত্রদের এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন,যাতে তারা এ দাবী পুরণে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে বাধ্য করতে পারে । আর তা না করতে পারলে মাস্তানি-গুন্ডামী-চ্যচরামি সবই ‘গণতান্ত্রিক’ বৈধতা পেয়ে যাবে । 
ভাবুন কি করবেন । দেশ আপনার, ভবিষ্যতও আপনার।

লেখকঃ সভাপতি, রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি।
nahidknowledge@gmail.com

অপার সম্ভাবনার কুড়িগ্রামের সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে – প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন




এক বছরের মধ্যে রংপুরে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা হবে বলে জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন । তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগকে শিল্পাঞ্চলে পরিণত করতে হলে গ্যাসের বিকল্প নেই। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।
শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে কুড়িগ্রাম সোসাইটির এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি ।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের বৈষম্য রাখতে চাননা। তিনি উত্তরাঞ্চলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।বিদ্যুতর ব্যবস্থা হয়ে গেছে এখন গ্যাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


কুড়িগ্রামবাসীর বিভিন্ন দাবীর প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামকে ভাল বাসেন। আমাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন শুধু আমার মন্ত্রণালয়ের উন্নতির জন্য নয়, কুড়িগ্রামের জন্যও । আপনারা আস্থা রাখুন । কুড়িগ্রাম বদলে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,  অপার সম্ভাবনার কুড়িগ্রামের সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে। নদী বন্দরকে গতিশীল করা হবে। নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম অঞ্চল গুলোর সাথে জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের জন্য  সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন রাস্তা কাঁচা থাকবেনা । যে সমস্ত নদীতে ব্রিজ দরকার সেগুলো করা হবে। কুড়িগ্রাম নিয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে।
লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালুর ব্যপারেও প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এছাড়া  পাট চাষে বিখ্যাত উলিপুরের পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী জাকির বলেন, রংপুর অঞ্চলের হারিভাষা আমের সংরক্ষণ ও বাজারাজাতকরণের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে ।
কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণে করণীয় শীর্ষক এই  সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি এডভোকেট আনছারী ।
এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিককল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন চিশতিসহ অন্যন্যরা।
সভায় ঢাকায় বসবাসরত কুড়িগ্রাম জেলাবাসী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মনোজ্ঞ ভাওয়াইয়া পরবেশনায় অংশ নেন ভাওয়াইয়া শিল্পী শফিউল আলম রাজা, ক্লোজ আপ ওয়ান খ্যাত শিল্পী সাজু, ও কুড়িগ্রামের ভাওয়াইয়া শিল্পীরা।

সূত্রঃ QN

বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের স্মৃতি কথা




মুক্তিযোদ্ধা মো. শামসুল হক। অনেক স্বপ্ন নিয়ে সম্মুক যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। স্বাধীনতার মাসে তার যুদ্ধকালিন অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন

১. মরা স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিক্রম করেছি। আজো আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কারণ, স্বাধীনতার পরই আমরা নানাজন নানা মতে ও পথে বিভক্ত হয়ে পড়েছি। দেশমাতৃকার স্বার্থে এক হতে পারিনি। কিন্তু এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে পুরো জাতি যেমন এক হয়েছিল তেমনই আবারো এক হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর এ দায়িত্ব পালন করতে হবে নতুন প্রজন্মকে। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ভাষণ শুনে মুক্তিকামী জনতার সারিতে দাঁড়িয়ে আমিও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমি চাকরি করতাম যশোর জেলার, মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে। সেই সময়ে যশোর সেনানিবাস থেকে সুগার মিলের আশপাশে শীতকালীন মহড়ায় আসা আমার পরিচিত এক বাঙালি সেনা গোপনে আমাকে জানিয়ে দিলেন, পারলে দ্রুত বাড়ি চলে যাও, অবস্থা ভালো না। ১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে যশোর-ঢাকা রোডে পাক বাহিনী গুলি চালিয়ে রাস্তার সাধারণ মানুষ মেরে সামনে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়ার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। পাকসেনার গাড়ি চলে গেলে দেখা যায়, রাস্তার পাশে অনেক সাধারণ মানুষের লাশ পড়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে বাঙালিরা আরো জাগ্রত হয়। অস্ত্র নিয়ে যশোর সেনানিবাস থেকে বাঙালি সেনারা বেরিয়ে এসে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। তারা রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে সুকৌশলে অনেক পাকসেনাকে পাকড়াও করে মেরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের খাবারের জন্য আমি এবং নুর আলী বিশ্বাসসহ সংগ্রাম কমিটির সদস্যদের নিয়ে বাসায় বাসায় ঘুরে রুটি চিরা গুড় সংগ্রহ  করি। এভাবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কঠিন অসুবিধার মধ্যেও সুগার মিলে ছিলাম। প্রতিদিন বিবিসির খবর শুনে অবস্থা অবগত হতাম আর বাহিরে দেখতাম মিলের পাশ দিয়ে কিভাবে বাঙালিরা স্বজনদের নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রে চলে যাচ্ছে শরণার্থী হয়ে। নিকটতম সব কর্মকর্তা শ্রমিক/কর্মচারী সুগার মিল ছেড়ে বাড়িতে চলে গেছে। আমি একা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ি।

২. 
আমার বাড়ি রংপুরের শেষ প্রান্ত ভুরুঙ্গামারীতে। নুর আলী বিশ্বাস আমাকে সাহস দিয়ে বলেন, চলুন মেহেরপুরে যাই। ১৭ এপ্রিল সকালে মেহেরপুরে পৌঁছি। সেখানে গিয়ে দেখি মেহেরপুরের আমবাগানে মুজিব নগর সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যে শপথ গ্রহণ শুরু হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপদেশমূলক ভাষণ এবং নির্দেশাবলি শুনি। শপথ অনুষ্ঠান শেষে সুগারমিলে ফেরত চলে আসি।


১৯ এপ্রিল আমি শরণার্থীদের সাথে হেঁটে বাগদা সীমান্ত পার হয়ে বনগাঁ গিয়ে মাগুরার ছোহরাব হোসেন এবং যশোরের রওশন আলীর নিকট থেকে পরিচয়পত্র নিয়ে বনগাঁ থেকে ট্রেনে কলকাতায় যাই। যাওয়ার পথে ট্রেনে এক মহিলা যাত্রী আমাকে দেখে রাগ করে বলেন, আপনারা যুবক ছেলেরা জয় বাংলা ছেড়ে চলে আসছেন কেন? মুক্তিযুদ্ধে যান। আমরা সম্ভ্রম হারিয়ে এসেছি। উনার কথায় আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি। 

এরপর কলকাতায় গিয়ে হাওরা স্টেশন থেকে জলপাইগুড়িগামী ট্রেনে উঠে কুচবিহারের উদ্দেশে রওনা হলাম। এরপর কুচবিহার পৌঁছে সেখান থেকে বাসে করে দিনহাটা হয়ে সাহেবগঞ্জ নেমে হেঁটে বিকাল ৫টায় মুক্ত এলাকা ভুরঙ্গামারী পৌঁছি। জামতলায় জব্বার মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে শামসুল হক চৌধুরী এমপি, পেটলা মজিবর রহমান, ফজলার রহমান, আব্দুল জলিল সরকার, জয়নাল মিয়া, ডা. নিয়ামত আলী, আব্দুল মান্নান, কাদের ব্যাপারী, ফনী ভুষণ সাহা, আক্তার মন্ডল, ইসহাক ব্যাপারী, তমিজ মাস্টার, মধু মাস্টার, হাকিম শিকদারসহ আরো অনেককে মিটিং করতে দেখতে পাই। শামসুল হক চৌধুরী আমাকে দেখে চিৎকার করে কাছে ডেকে বললেন, তুই কেমন করে আসলি? ঐদিকের খবর বল। আমি বিস্তারিত ঘটনা খুলে বললাম। তিনি আমাকে ক্যাপ্টেন নওয়াজেশের সাথে কাজ করার নির্দেশ দিলেন।

৩.
পরের দিন ক্যাপ্টেন নওয়াজেশের সাথে দেখা করি। তার নির্দেশক্রমে প্রথম দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত ও খাবার ব্যবস্থার জন্য ফায়ার সার্ভিসের একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে আসামের গোলকগঞ্জ থেকে পেট্রোল এবং জয়মনিরহাট, নাগেশ্বরীর খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করে এনে সিও অফিসে ক্যাপ্টেনের কাছে রাখতে শুরু করি। এ ছাড়া উত্তর ধরলামুক্ত থাকার সময়ে নাগেশ্বরীর আওয়ামী লীগের সংগঠক শেখ মজিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডা. ওয়াশেক আহম্মেদ ও ভুরুঙ্গামারীর মজিবুর রহমানের সাথে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে বিভিন্ন সলাপরামর্শ করি। কুড়িগ্রাম পাকবাহিনীর দখলে চলে গেলে উত্তর ধরলামুক্ত রাখার জন্য আমাদের জোয়ানরা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু বেশি দিন মুক্ত রাখা সম্ভব হয়নি। এরপর ঊর্ধ্বতন সংগঠকদের নির্দেশে আমরা ভারতের বর্ডারে চলে যাই। কুচবিহার ৬নং সেক্টরের জোনাল অ্যাডমিনিসট্রেটর মতিউর রহমানের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নেই। সাহেবগঞ্জে ক্যাপ্টেন নওয়াজেশের ৬নং সেক্টরের ‘সাব সেক্টর’ অফিস চালু করি। এরপর নাজিরহাটে ঝন্টু মিয়ার জমিতে ‘যুব শিবির’ তৈরি করি। নাজিরহাট যুব শিবিরে প্রতিদিন ৪০/৫০ জন যুবক ভর্তি হতে থাকেন। এদের খাওয়া, যাতায়াতসহ সব কিছু আমাকে দেখতে হয়েছে। ২/৩ দিন শিবিরে রেখে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দিনহাটায় শিবিরে পাঠানো হতো। সেখান থেকে ভারতের সহায়তায় সামরিক ট্রেনিংয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতো।

৪.
দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের কতো করুণ স্মৃতি/ইতিহাস মনের ভেতরে আছে তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। ক্লান্তি বলে শরীর থেমে থাকেনি। যখন যেখানে ডাক পড়েছে ছুটে গেছি। ভুরঙ্গামারী পাকবাহিনী দখলে থাকা অবস্থায় গেরিলা কায়দায় কয়েক রাত্রি ভুরঙ্গামারী এসেছি। কিন্তু নিজের বাড়ি খুঁজে পাইনি। রাজাকাররা আমাদের বাড়ি ঘর সব পুড়িয়ে এবং গাছপালা কেটে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালে ১৪ নভেম্বর ভুরঙ্গামারী হানাদার মুক্ত হলে পরিবারের লোকজন নিয়ে ভারত থেকে নিজ ভ‚মিতে ফিরে আসি। খোলা আকাশের নিচে অনেক দিন তাঁবু খাটিয়ে থাকতে হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে দীর্ঘ ৯ মাসের দুঃখ বেদনা ভুলে আমরা আনন্দে মেতে উঠি। এরপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ২৭ ডিসেম্বর মোবরকগঞ্জ সুগার মিলে পৌঁছে আবার কর্মে যোগ দেই। যারা ঐ সময়ে সুগার মিলে ছিলেন তারা আমাকে দেখে চিৎকার দিয়ে বলে উঠেন আপনাকে নাকি বর্ডার পার হওয়ার সময় খান সেনারা মেরে ফেলেছে। আপনার মৃত্যুর সংবাদে আমরা শোক সভা, গায়েবি জানাজা এবং মসজিদে দোয়া মাহফিল করেছি এই আপনার ভাগ্য

এতো সংগ্রাম এবং কষ্টের বিজয়কে ফলপ্রসূ করার জন্য স্বাধীনতার মাসে এই নতুন প্রজন্মের কাছে আমার বিনীত আরজ আমরা বাঙালি বীরের জাতি। আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নিচু করবে না। শেখ মজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বীর বাঙালি দলমত নির্বিশেষে এক জোট হয়ে মাত্র ৯ মাসেই একটি দেশ স্বাধীন করেছি। বিশ্বের ইতিহাসে এমন সাহসিক বিজয়ের নজির নেই। সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক জোট হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করো।

নোটিশ; কুড়িগ্রাম সোসাইটি


আমার মনে হয় অনুষ্ঠানটি সু- সম্পন্ন করার জন্য কিছু কিছু বিষয়ে সু নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত -

১) ১৫ সদস্য বেষ্টিত ভলান্টিয়ার টিম  যা ২ ভাগে থাকবে , এক ভাগের নেতৃত্ব দিবে আমাদের ইব্রাহিম পারভেজ যা ৫ সদসসের , এই গ্রুপের কাজ হবে আমন্ত্রিত অতিথি দের গেট থেকে মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে আসা ও মঞ্চে নিদ্রিস্ট বাক্তি ছাড়া অন্য কাউকে উঠতে না দেয়া , অন্য গ্রুপ এর নেতৃত্ব দিবে আমাদের শিশির সরকার ,১০ সদস্য বিশিস্ট এই গ্রুপের কাজ হবে অতিথি ও দর্শক শ্রোতার মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং খাবার বিতরন করা ।

২) অতিথিদের ফুল দিয়ে বরন করার জন্য স্মার্ট বাচ্চা হলে ভালো হয় , সে ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে যাদের বাচ্চা আছে আমার ধারনা সবার বাচ্চারাই স্মার্ট ( হামরা মফিজ হইলে ও হামার সবার বাচ্চারা স্মার্ট এটা আমার নিজস্ব ধারনা ) তারা জানাতে পারেন ,বাচ্চা নিয়ে আসায় ইচ্ছুক সবার ক্ষেত্রে ১ জনের বেশী বাচ্চা একেক পরিবার থেকে নেয়া হবে না । বাচ্চা না পাওয়া গেলে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামীকালের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কে কাকে ফুল দিয়ে বরন করবো ।

৩) ক্রেস্ট প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই দুই জন করে এক জন আমন্ত্রিত অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান করবো । সে সিদ্ধান্ত ও আগামীকালের মধ্যে নিতে হবে ।

৪) উপস্থাপনার জন্য আমাদের সাব্বির খান সায়েম ও শিশির সরকার থাকবেন , এর বাইরে কোন মেয়ে উপস্থাপিকা হতে চাইলে আজকের মধ্যেই জানানোর জন্য বলা হচ্ছে , সেক্ষেত্রে মেয়ে উপস্থাপিকার জন্য ড্রেস- মেকাপ সহ অন্যান্য বিষয়ে আমাদের কিছু পরামর্শ থাকবে ।

৫) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অর্থাৎ ভাওয়াইয়া গান এর প্রোগ্রাম হতে পারে ( এখনো পুরাপুরি কনফার্ম না ) সে বিষয় কনফার্ম হলে ও নির্দেশনা সহকারে জানিয়ে দেয়া হবে । ধন্যবাদ সবাইকে ।

এই সব বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত থাকলে কমেন্টস করে আমাদের জানিয়ে রাখতে পারেন ।


  • সাধারণ সম্পাদকঃ শাহীন চিশতি

পুনরায় ন্যাশনাল সার্ভিস চালুর দাবি কুড়িগ্রামের বেকার যুবকদের!



এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কর্মসংস্থানহীন কুড়িগ্রামে ন্যাশনাল সার্ভিস পুনরায় চালুর দাবি করেছে এখানাকার নয়টি উপজেলার হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীরা। এ দাবিতে মানববন্ধন ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে বেকাররা।

এর অংশ হিসেবে শুক্রবার উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের চরশৌলমারী হাই স্কুল মাঠে ইউনিয়ন পর্যায় মানববন্ধন ও আলোচনা সভা করেছে সেখানকার বেকার যুবক-যুবতীরা।
এতে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল সার্ভিসের ইউনিয়ন সভাপিত দুলাল হোসেন, সাধারন সম্পাদক সিরাজুল মাষ্টার, কোষাধ¶ মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ন্যাশনাল সার্ভিস নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রৌমারী উপজেলাসহ কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস পুনরায় চালু করার জোড়দাবি করছি।
তারা বলেন, আমাদের মতো বেকারদেরকে তিনি ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় এনে বেকারত্বের বিষাক্ত অভিশাপ থেকে আমাদের রক্ষা করবেন এই প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে করছি আমরা।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেকারত্ব দূরীকরণে নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় ২০১০ সালে প্রথম দুই বছর মেয়াদী ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করেন। সে সময় কুড়িগ্রামে দুই দফায় কয়েক হাজার বেকার যুব-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় বেকার যুব-যুবতীদের বিভিন্ন দপ্তরে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকুরি দেওয়া হয়। এর মধ্যে তৃতীয় দফায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের আহবানে আরও কয়েক হাজার বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে দরখান্ড আহবান করা হয় এবং আবেদনকারীদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে বাছাই করা হয়। কিন্তু এর মাঝে ন্যাশনাল সার্ভিসের কার্যক্রম কুড়িগ্রামে স্থগিত হয়।
এতে তৃতীয় দফায় আবেদন কারী কয়েক হাজার বেকার যুবক-যুবতীর ভাগ্যে সরকারি অর্থনৈতিক সুবিধা আর জোটেনি। বন্ড়াবন্দী হয়ে থাকে তাদের ন্যাশনাল সার্ভিসের আবেদন। তৃতীয় দফার আবেদনকারী ও পূর্বে নিয়োগ প্রাপ্তদের অনেকের সরকারি চাকুরির বয়সসীমা শেষ পর্যায়ে। এ অবস্থায় কুড়িগ্রামে ন্যাশনাল সার্ভিস পুনরায় চালু করে তৃতীয় দফার আদেনকারীদের ন্যাশনার সার্ভিসে নিয়োগ প্রদান ও পূর্বে নিয়োগ প্রাপ্তদের পুনঃনিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি করা একান্ত জরুরী বলে জানিয়েছেন এখানকার বেকাররা।

সূত্রঃ স.বা.

আজই প্রকাশ হচ্ছে NTRCA নিবন্ধনধারীদের সুপারিশ



বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃতদের তালিকা প্রস্তুত করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছেন।  জানা গেছে আজ রাতেই ওই তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

কর্মকর্তারা জানান, আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যে কোনও সময় সুপারিশকৃত প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অন্য আরেকটি সূত্র জানায়, রাতের মধ্যেই সুপারিশকৃতদের তালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। এরপর সুপারিশপত্র প্রকাশ করা হবে। সুপারিশকৃত প্রার্থীরা নিজ নিজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সুপারিশপত্রটি ডাউনলোড করে নিবেন।

ফেব্রুয়ারিতে ৪০ হাজার শূন্য পদে যোগদান কার্যক্রম শুরু হবে।
জানা গেছে, কোনও প্রতিষ্ঠান সুপারিশকৃতদের নিয়োগে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হবে। বোর্ড প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ভেঙ্গে দিবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে শিক্ষক পদে ৩১ লাখ আবেদন জমা পরে।

ভালোবাসার মাঝে, একটি প্রশ্ন | মোস্তফা তোফায়েল

Love, A Question : Robert Frostঅনুবাদ, ভালোবাসার মাঝে, একটি প্রশ্ন -মোস্তফা তোফায়েল


সন্ধার কালে দরোজার কাছে অচেনা অতিথি এসে,
সুদর্শন সে-বরের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে ফেলে।
সবুজ-শুভ্র ছড়ি একখানা ধরা ছিল তার হাতে,
এবং, সে-সাথে আশ্রয়-খোঁজা উদ্বেগ দেয় ঢেলে।
ভাষা ছিল তার চোখের তাকানো, মুখের কথার চেয়ে,
আবেদন শুধু সেই সন্ধায় এতটুকু আশ্রয়,
ফিরে সে দাঁড়ালো তাকিয়ে সুদূরে পথের অপর পাড়ে
জানালার আলো যদিও হয়েছে ক্ষয়।
বর মহোদয় হলেন উদয় তখন বারান্দায়,
বললেন, তা হলে আসুন, আকাশের তারা গুণি,
অতিথি সুজন, আপনি ও আমি প্রশ্ন সুধাই তাকে,
আজিকার রাত কেমন কাটিবে, শুনি।”

মাধবীকুঞ্জ বিছিয়েছে পাতা সকল আঙিনা জুড়ে
নীল জামগাছ নীলে নীলে গেছে ভরে,
হেমন্ত কাল, তবু আসে শীত বাতাস কুয়াশা ভরা;
অজানা অতিথি, যদি জানতেম, কেন তুমি এলে ওরে!
ঘরের ভেতরে, একাকী বধূটি এই সন্ধার কালে
ঝুঁকে বসে আছে খোলা চুল্লির কাছে,
লালাভ আগুনে মুখখানি তার গোলাপির রঙে রাঙা,
ভাবনায় তার কামনামদির মিলন বাসনা আছে।
বর মহোদয় উদাস তাকায় ক্লান্ত পথের দিকে 
তথাপি দেখেন বধূকে তাহার, ঘরে,
কামনা করেন হৃদয় তাহার সোনালি সুখের ফ্রেমে
রূপোলি কাঁটায় বিঁধে আছে অন্তরে।
বর মহোদয় মেহমানে তার কতটুকুই বা দেবে--
রুটি একখানি, টাকাকড়ি দিতে পারে,
আর দিতে পারে এই মুসাফিরে দুহাতে আশীর্বাদ,
ধনবানদের অভিশাপ, ধিক্কারে;

কিন্তু এমন আগন্তুকের আগমন হেতু কী যে
দুটি হৃদয়ের প্রেম ধ্বংসের কাজে
বিয়েবাড়ি এসে দুঃখ বিছিয়ে দিয়ে,
ভাল ছিল জানা, যেহেতু জানেন-না যে।


২১ জানুয়ারি, ২০১৯
পল্লবী, মিরপুর-১২, ঢাকা।

দ্রুত অপেক্ষার অবসান নিবন্ধনধারীদের



দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার অবসান চলতি সপ্তাহে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তারিখ বলবো না। তবে আশা করছি এ সপ্তাহের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে।

কী পদ্ধতিতে নিয়োগ দেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। ফল প্রকাশের পর যোগ্য প্রার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকে এসএমএস ও লিখিতভাবে এ তথ্য জানানো হবে। আশফাক হুসেন বলেন, ৩০ দিনের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীকে যোগদান করতে বলা হবে। যদি কেউ এ সময়ের মধ্যে যোগদান না করেন তবে পরবর্তী মেধা তালিকায় যোগ্য প্রার্থীকে যোগ্য বলে বিবেচনা করে তাকে যোগদানের সুযোগ দেয়া হবে।

জানা গেছে, সারাদেশে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৯ হাজার ৫৩৫ জন শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। ১ম থেকে ১৪তম নিবন্ধিতদের জন্য আবেদনের সুযোগ ছিল। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয় ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ২ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত। গত ১২ জুন যাদের বয়স ৩৫ অথবা তার কম এবং জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য শর্ত পূরণ করবে শুধু তারাই নিয়োগ হবে। জাতীয় মেধার ভিত্তিতে বাছাইপূর্বক বিধি মোতাবেক প্রতিটি পদের বিপরীতে চূড়ান্তভাবে একজনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ। এর পর নির্বাচিতদের মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে সেই তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। বিস্তারিত জানা যাবে 

অথবা 
http://ntrca.gov.bd এ ওয়েবসাইটে।

কবিতাঃ মন চুন্নি

মন চুন্নি -এ বি সিদ্দিক 


আমার সুখের ঘরে দিয়ে তালা
হারিয়ে ফেলেছি চাবি,
সেই চাবি নাকি তুই পেয়েছিস
বল কবে ফেরৎ দিবি?

আমার ভালোবাসার ব্যাংকে রে তুই বারবার চালাস হামলা,
হাতেনাতে এবার পরেছিস ধরা
এবার ঠেলা সামলা!

চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা
যদি না পরতিস ধরা,
ধরা যখন পরেছিস এবার
তখন বুঝবি এতে কত প্যাড়া।


NTRCA -এর প্রথম গণশুনানি কাল

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে গণশুনানি অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) উদ্যোগে আটটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৪৫  মিনিটে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে  সিলেট বিভাগে প্রথম গণশুনানির আয়োজন করেছে ।

বুধবার (২৩ জানুয়ারি)এনটিআরসিএর একাধিক সূত্র দৈনিক শিক্ষাকে এ খবর নিশ্চিত করেছে। গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করবেন এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন। 
গণশুনানিতে সিলেট বিভাগের নিবন্ধন সনদধারীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। গণশুনানিতে তারা নিবন্ধন সম্পর্কিত সমস্যা, পরামর্শ, আবেদন এবং অভিযোগগুলো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। 
সূত্রঃ দৈ.শি

গল্পঃ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার জুটি


লেখকঃ খাইরুল আনাম
শিকাগো, আমিরিকা থেকে
দু'জায়গায় চাকুরীরত, ইদানিং বিবাহিত, দুই পেশার মানুষের মধ্যে ফোনে কথপোকথনঃ

ইঞ্জিঃ হ্যালো, ঢাকা? এটা কি ঢাকা? হ্যালো, এটাকি ......
ডাঃ  কি হলো? ফোন বেজে ওঠা থেকেই তো আমি হ্যালো, হ্যালো বলে যাচ্ছি। তবু অত চ্যাঁচাচ্ছো কেন?
ইঞ্জিঃ স্যরি। আসলে তুমি না অন্য কেউ ভেবে একটা কনফিউশান হচ্ছিল।
ডাঃ  কে মনে হচ্ছিল? আমার আম্মা না আমাদের কাজের বুয়া? গলার স্বর শুনে নিজের বউ চিনলে না? আশ্চর্য্য!
ইঃ  আবারও স্যরি। তা কেমন আছ বল, মানে ইয়ে, তোমার এ অবস্থায়। মানে ডাক্তার সাহেব কি বলল?
ডাঃ  কি আর বলবে? এখন এডিমা (edema) হয়ে ধুমসি হয়ে যাচ্ছি। একবার নিজে চোখে দেখলে মনে হয় লাথি মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেবে। ডাক্তার বলেছে, পরে এক্‌লামশিয়াও (eclampsia) ও হতে পারে। তখন বুঝবে। বাছার বৌ পাগল হওয়ার এত শখ বেরিয়ে যাবে।

ইঞ্জিঃ   কি সব বলছ? ওগুলোর মানে কি? বাবার জন্মেও তো ওই সব ওয়ার্ডের নাম শুনিনি। খুব খারাপ কিছু?
ডাঃ  বল কি? এ সবের নাম শোন নি? এগুলো তো সবাই জানে। তা তোমার আর দোষ কি? গলা শুনে নিজের বউকেই তো চিনতে পারলে না। তা যাকগে, আজ এত দেরীতে ফোন দিলে যে? কি হয়েছিল?
ইঞ্জিঃ  আর বোলনা। দরকারী কিছু কিনতে সকালে উঠেই চা না খেয়ে দৌড়তে দৌড়তে একটু বাজারে গিয়েছিলাম। দু’তিন জায়গায় ঘুরলাম। কিচ্ছু লাভ হলো না বোয়েচো। মন খারাপ। খালি ব্যাগ নিয়ে বাড়ী ফিরে এসেই তোমাকে ফোন দিলাম। তাই একটু দেরী হয়ে গেল। সামান্য দেরীর জন্য তুমি আবার কিছু মনে ক’রো না।

ডাঃ  আহারে, বেচারা! অত সকাল সকাল বাজারে গিয়েও কোন সুবিধে হলো না? খুব দরকারী কিছু? কি জিনিষটা?
ইঞ্জিঃ  না, মানে তেমন কিছু না। ঐ আর কি, সামান্য কয়েকটা এনট্রপি (Entropy) কিনতে গিয়েছিলাম। দেখলাম একগাদা লোক দোকানটায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ভীড়টা কমতে এগিয়ে গিয়ে দেখি, সব ফর্সা। তো পরের লেনে আইসোথার্ম (Isotherm) এর একটা দোকান ছিল। ভাবলাম এনট্রপি না পাই, অন্তত কেজি দুই আইসোথার্ম না হয় নিয়ে যাই। ও খোদা। সেখানেও সেই একই অবস্থা। আরো দু’সপ্তাহ নাকি দেরী করতে হবে, যে কোন একটা বা দু’টোই পেতে।

ডাঃ তাহলে তো বড় মুস্কিলের কথা। চিটাগাং-এ আর কোথাও পাওয়া যায় না? মানে অন্য কোন দোকানে? তুমি চাইলে আমি নিজে বা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের বলে ঢাকায় চেষ্টা করে দেখতে পারি। কি ওগুলো?
ইঞ্জিঃ থাক, তোমাকে খামকা কষ্ট করতে হবে না। ওগুলো তেমন কিছু না। ঠিকমতো জানা না থাকলে যত্রতত্র খুঁজে পাওয়াও যায় না। অবশ্য এগুলের নাম সবাই জানে। একেবারে অতি সাধারণ জিনিষ। অনেকটা তোমার ঐ এডিমা বা এক্‌লামশিয়ার মতো।
                                   

আজ রাতেই প্রকাশ হবে নিবন্ধনধারীদের সুপারিশ


বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যে কোনও সময় তা প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র। তালিকা প্রকাশের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ। রোববার দিবাগত রাতেই এই তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। কোনো কারণে রোববার এই তালিকা প্রকাশ না হলেও সোমবার প্রকাশ হতে পারে বলেও জানিয়েছে এনটিআরসিএ সূত্র।


কর্মকর্তারা জানান, আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যে কোনও সময় সুপারিশকৃত প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। জানা যায়, সুপারিশকৃতদের তালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। এরপর সুপারিশপত্র প্রকাশ করা হবে। সুপারিশকৃত প্রার্থীরা নিজ নিজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সুপারিশপত্রটি ডাউনলোড করে নিবেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪০ হাজার শূন্য পদে যোগদান কার্যক্রম শুরু হবে।
জানা গেছে, কোনও প্রতিষ্ঠান সুপারিশকৃতদের নিয়োগে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হবে। বোর্ড প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ভেঙ্গে দিবে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে শিক্ষক পদে ৩১ লাখ আবেদন জমা পরে।

সখিনা সুলতানা ঝর্ণার "পিঙ্গল জীবন" নিয়ে আমার কিছু কথা

"পিঙ্গল জীবন" উপন্যাসের প্রচ্ছদ


শুরুতে এমন চমৎকার একটা বই উপহার দেওয়াতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি, "পিঙ্গল জীবন" উপন্যাসের শ্রদ্ধেয় ঔপন্যাসিক সখিনা সুলতানা ঝর্ণাকে।
.


সার-সংক্ষেপ ও সার্থকতাঃ


"পিঙ্গল জীবন" উপন্যাসের কেন্দ্রিয় চরিত্র- কুসুম। অত্যন্ত নম্র-ভদ্র এবং রুপ-লাবণ্যে সে যেন একটি সদ্যফোঁটা গোলাপ। বাবা-মা এবং ছোট দুই ভাইসহ বস্তির একটি জীর্ণ ভাড়াটে বাড়িতে তাদের বাস। দুঃখের সংসার বলে ম্যাট্রিক পাশের পর লেখাপড়া বিসর্জন দিয়ে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ নিতে হয় তাকে। কিন্তু, তার রুপ-লাবণ্য এবং সুন্দর্য তারই শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। দুধে আলতা রুপ দেখে দুলাল দালালসহ ফ্যাক্টরির আর কিছু মানুষরুপি নরপশু তার শরীর উপভোগ করতে নির্লজ্জ বেপরোয়া হয়ে উঠে। তাই কুসুমকে চরম দুঃসময়েও ইজ্জত রক্ষার্থে ফ্যাক্টরির কাজ ছেড়ে দিতে হয়। তরাঙ্গায়িত জীবন বসে থাকবার নয়। তাই সে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ নেয়। আফজাল আহমেদের পল্টনের বাসায় সকাল ছ'টায় যায়, রান্না শেষে ঠিক সন্ধ্যায় নিজ কুঠিরে ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীর নিয়ে ফিরে আসে কুসুম। এভাবে একটানা খাটুনি চলতে থাকে কুসুমের। কিন্তু, ভাগ্যের নির্মমতায় কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার নরপশুদের কালো থাবায় পড়তে হয় তাকে। এই নরপশুগুলো হলো, আবরার(আফজাল সাহেবের ছেলে) ও তার পাঁচ বন্ধু। ভাগ্যিস তার হাতে ফলকাঁটা ছুরি ছিল, আর তা এলোপাতারি চালিয়ে অনেক আঘাত এবং ধস্তাধস্তির পর নিজেকে মুক্ত করে কুসুম। একের পর এক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে জর্জরিত জীবন নিয়ে অবর্ণনীয় দুঃখের মধ্য দিয়ে কাঁটতে থাকে তার সময়গুলো। অপার দুঃস্বপ্ন ঘিরে বসে তাকে। যেন নিজের জীবন নিজের কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে তার।
লেখক একথা বলতে গিয়ে বলেছেন-

"গরিবের ঘরে সুন্দরী যুবতী মেয়ে থাকা মানে সাক্ষাৎ যমদূত থাকা।"


.
অনেক টানাপোড়ানের জীবন কুসুমের। তবু মনস্থির করলো নিজের পায়ে নিজেকে দাঁড় করাবেই, অর্থা আত্ম-প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই, নিজ বাসায় গড়ে তুললো ব্লক এবং নার্সারি। তার পাশাপাশি গ্রাম-গঞ্জে বিক্রি করে শাড়ি-কাপড়। রাত-দিত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয় তাকে। এভাবে সমাজের অনেক লাঞ্চনা-বঞ্চনা এবং কটাক্ষকে অতিক্রম করে কুসুম হয়ে ওঠে নারী সমাজে এক আত্মবিশ্বাস এবং মানদন্ডের নাম। লেখকের ভাষায় বলতে গেলে যেন অবলা কুসুম হয়ে ওঠে-


"অলরাউন্ডার কুসুমে।"
.
লেখক তার কলমের যাদুকরী শক্তিতে বস্তির সেই নম্র-ভদ্র এবং ভীত মেয়েটিকে যেভাবে রুপায়িত করে আমাদের সম্মুখে ফুঁটে তুলেছেন তাতে পরিষ্কার যে, লেখকের মানষপটে নারী মুক্তির এক অনির্বাণ শিখা সদা প্রোজ্জ্বলিত। মূলত সেই শক্তির বলে লেখক সমাজের উপেক্ষিত, অবহেলিত ও নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতি জোড়ালো আহ্বান করে বলেছেন, আমাদের মুক্তির জন্য সবার আগে আমাদেরই(নারীদেরই) জাগতে হবে। অপরদিকে আফজাল আহমেদ আপরাধের দায়ে নিজ পুত্রকে আইনের সপর্থ করে যে বিরল দৃষ্টান্তের জন্ম দিয়েছেন তা মূলত- আজকের এই বিবেক বিবর্জিত সমাজে বিবেকেরই শুভোদয়।
অনিশ্চিত মুক্তির বেদনা নিয়ে যখন অবহেলিত, উৎপীড়িত, নির্যাতিত এবং অবলা নারী সমাজ একবুক হুতাশায় বলে- গরিবের আবার ইজ্জত কী?
ঠিক তখনি ভীত-সন্ত্রস্ত নারী সমাজের মুক্তির দূত হয়ে লেখক ঘোষণা করলেন জাগরণী মুক্তির বার্তা-
আলরাউন্ডার শব্দটা কী শুধুই পুরুষের জন্য?
এর মধ্য দিয়ে পুরিষ্ফূটিত হয় লেখকের হৃদয়ে জমানো নারী সমাজের মুক্তির প্রবল বাসনা। লেখক সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই লেখালেখি করেন এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর লেখনি যেমন ধারালো তেমনি মাধুর্যপূর্ণ। প্রেম, দ্রোহ আর মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ তাঁর সাহিত্যের বড় গুণ। পরিশেষে বলা যায়, "পিঙ্গল জীবন" লেখকের একটি অনবদ্য সৃষ্টিকর্ম ও সার্থক উপন্যাস।


বইয়ের নাম ও ধরণঃ
"পিঙ্গল জীবন", উপন্যাস


ঔপন্যাসিকঃ
সখিনা সুলতানা ঝর্ণা


Fb Link:
Sakhina Sultana Jharna


লেখক পরিচিতিঃ
জন্ম স্থান রাজশাহী জেলা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায় থেকে লোকপ্রশাসনে কৃতিত্বের সাথে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিসিকে কর্মজীবনের শুরু হলেও মাঝে কুষ্টিয়া মহিলা কলেজে শিক্ষকতা এবং বর্তমান টিএমএসএসে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করছেন। তিনি একাধারে কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক, সমাজকর্মী এবং গার্লস গাইড। কবির প্রকাশিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ "নিপুন শব্দস্রোত" (যৌথ), "ছোঁয়ালে তোমার হাতখানি", "ধোঁয়াচ্ছন্ন কুয়াশা" (যৌথ), পিঙ্গল জীবন ইত্যাদি।


প্রকাশনীঃ
বলাকা


প্রকাশকঃ
শরীফা বুলবুল


প্রচ্ছদঃ
মোস্তাফিজ কারিগর


ISBN:
978-984-93137-9-3


ওয়েব সাইটঃ
www.balakaprokashon.com


পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ
৯৪


মূল্যঃ
২০০/-


প্রাপ্তিস্থানঃ
বলাকা প্রকাশনী


ব্যক্তিগত মতামতঃ
"যখন কবি আর কবিতা নিয়ে যুদ্ধ তখন পিঁছিয়ে পড়া নারীর কবিতার ময়দানে এক পাহাড় প্রত্যয় ও দৃঢ় বিশ্বাসের নাম- 'সখিনা সুলতানা ঝর্ণা'।"